মঙ্গলবার ● ৩ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » ছবিঘর » রাঙামাটিতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া বহাল তবিয়তে
রাঙামাটিতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া বহাল তবিয়তে
স্টাফ রিপোর্টার :: বহুল আলোচিত ও শত-শত অভিযোগে অভিযুক্ত রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকার শাসনামলে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্বৈরাচার সরকারের সময়ে রাঙামাটিতে দায়িত্ব পালনকালে পরাগ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে সরকারি পদে থেকে ঠিকাদারি, অফলাইনে টেন্ডার, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশন নেওয়া এবং টেন্ডার টেম্পারিংয়ের, বিভিন্ন প্রকল্প কাজের অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ডিজিএফআই ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর কাছে এসব অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পতিত আওয়ামী স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী ও স্বৈরাচার পতিত সরকারের রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারের সুপারিশে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এখনো পদ জেঁকে বসে আছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যখন কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে, তখন এই ধরনের দালালরা কীভাবে এখনও স্ব-পদে বহাল থাকে প্রশ্ন সাধারণ সচেতন মহলের।
জানা যায়, পরাগ বড়ুয়া ছাত্রলীগের ক্যাডার রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা।
সাবেক আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। তার প্রভাব খাটিয়েই তিনি এতদিন সব অনিয়ম জায়েজ করেছেন।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, দুদকসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তা ও প্রশাসনকে নানাভাবে ম্যানেজ করে এখনও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং আগের মতোই প্রভাব বিস্তার করছেন এবং স্ব-পদে বহাল থাকার জন্য রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতাদের কাজ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে চাঁদা দিয়ে এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির উপর মহলে বিপুল পরিমাণ অর্থের মাধ্যমে তদবিরের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
রাঙামাটি পৌর এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের নদী খননসহ, পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২১শে আগস্ট-২০২৫ বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদক রাঙামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আহমেদ ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে দুদক কর্মকর্তারা এডিবির অর্থায়নে ৩৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যাদেশ না মেনে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করেন। এ সময় দুদক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন নথিপত্র তলব ও যাচাই বাছাই করা হয়।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, পরাগ বড়ুয়া টেন্ডারের গোপন রেট ফাঁস করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেন। প্রতিটি ওয়ার্ক অর্ডারে ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করতেন তিনি।
উপজাতীয় একটি সিন্ডিকেট এর সাথে হাত মিলিয়ে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়া ঢাকায় প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারদের কাছে অস্ত্রধারীদের চাঁদার কথা বলে কোটি-কোটি টাকা ঠিকাদারদের কাছ থেকে আঞ্চলিক কয়েকটি গোষ্ঠী ও পরাগ বড়ুয়া ভাগভাটোয়ারা করা তথ্য পাওয়া গেছে। রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পরাগ বড়ুয়ার এসকল অপকর্মের অন্যতম সহায়তাকারী রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বড়ুয়া নামও সামনে এসেছে।
নাম গোপন রাখার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, প্রকল্প বিল ছাড় করাতে হলে পরাগ বড়ুয়াকে ৩% পর্যন্ত ঘুষ দিতে হতো। ফাইলের সঙ্গে টাকা না দিলে দিনের পর দিন বিল আটকে রাখা হতো। অনেকে ন্যায্য বিল পেতে বছরের পর বছর দৌড়াদৌড়ি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দুর্নীতির কাজ পরিচালনায় তাঁর আশপাশে একটি ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরাগ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রধান কার্যলয় থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীরা বলেন, স্বৈরাচার সরকারের পতনের পরও প্রশাসনের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজরা বহাল থেকে দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রেখেছেন। পরাগ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগিরা।




গত ৫৫ বছরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিপরীতে দেশ পরিচালনা করা হয়েছে
পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণগঠন : সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন, সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী
ধর্ম অবমাননার নামে দেশে আইয়েমে জাহেলিয়াতের যুগ ফিরিয়ে আনা যাবেনা
গণভোটের রায়ের পক্ষে অবস্থান সরকারের জন্য গৌরবজনক হবে
বাঘাইছড়িতে বিপ্লবী ওয়ার্কর্স পার্টির কমিটি গঠন
ধর্মগোধা ধর্মকুয়া চন্দ্রবংশ বৌদ্ধ বিহার ও ভাবনা কেন্দ্রের নতুন উপদেষ্টা এবং পরিচালনা কমিটি গঠন
৫ বছরে রাঙামাটি জেলায় ৪১ হাজার বৃক্ষরোপন করবেন রাঙামাটি সড়ক বিভাগ
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পরেও আমরা রাজনৈতিকভাবে সাবালক হয়ে উঠতে পারিনি
বিতর্কিত নীতি কৌশল ও পদক্ষেপ থেকে সরকারকে বিরত থাকতে হবে