ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ এফটিএ নিয়ে বাংলাদেশ-ভুটান আলোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 19, 2026 ইং
বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ এফটিএ নিয়ে বাংলাদেশ-ভুটান আলোচনা ছবির ক্যাপশন: ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভুটানের চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ad728


বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএর আওতায় পণ্যের পরিধি বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। 

সোমবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং ভুটানের পররাষ্ট্র সচিব পেমা লেকতুপ দর্জি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। 

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন, কৃষি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশই বিদ্যমান রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সাধারণ মানুষের জন্য আরও বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফলে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে। 

উভয় পক্ষ উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হয়। পাশাপাশি সংস্কৃতি, পর্যটন, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, যুব বিনিময় এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। 

বৈঠকে ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এই উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ ও সমর্থন প্রকাশ করে এবং টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও যৌথ সমৃদ্ধিতে এর সম্ভাব্য ভূমিকার কথা তুলে ধরে। এই উদ্যোগের আওতায় পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতেও আগ্রহ দেখিয়েছে ঢাকা। 

এ ছাড়া কুড়িগ্রামে ভুটানের জন্য নির্ধারিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আলোচনা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এবং বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় করে দুই দেশ। 

চতুর্থ ফরেন অফিস কনসালটেশনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ও ভুটান ভবিষ্যতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশের পরবর্তী ফরেন অফিস কনসালটেশন উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হবে। 



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাইফুল হক: কোনো দেশের আনুগত্য নয়, জাতীয় স্বার্থে স্বাধীন পরর

সাইফুল হক: কোনো দেশের আনুগত্য নয়, জাতীয় স্বার্থে স্বাধীন পরর