ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের সঙ্গে এআই নিরাপত্তা চুক্তিতে সই ওপেনএআই, গুগল, মেটাসহ ৬ প্রতিষ্ঠানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 30, 2026 ইং
ট্রাম্পের সঙ্গে এআই নিরাপত্তা চুক্তিতে সই ওপেনএআই, গুগল, মেটাসহ ৬ প্রতিষ্ঠানের ছবির ক্যাপশন: হোয়াইট হাউজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এআই নিরাপত্তা চুক্তির ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ad728

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছে ছয়টি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। দ্রুত বিকাশমান এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যেই হোয়াইট হাউজে এ চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

‘জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপনসিবিলিটিজ’ নামের চুক্তিতে সই করেছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ, এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং।

হোয়াইট হাউজে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের পর ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দেন।


চুক্তি অনুযায়ী, এআই মডেলের কার্যক্রম ও সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের জন্য শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে আলাদা তদারকি দল রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি বা সমস্যা শনাক্ত হলে তা সমাধানের ব্যবস্থাও রাখবে কোম্পানিগুলো। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করতে স্বাধীন নিরীক্ষকদের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এআই নিরাপত্তা বাড়াতে মানদণ্ড ও উত্তম চর্চা নির্ধারণের জন্য নিয়মিত বৈঠকের কথাও রয়েছে চুক্তিতে।

তবে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষক কারা হবেন বা কীভাবে তাঁদের নির্বাচন করা হবে, সে বিষয়ে চুক্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

ভবিষ্যতে এসব নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আইন বা আনুষ্ঠানিক বিধিবিধানের আওতায় আনা যুক্তিসংগত হতে পারে বলেও এতে একমত হয়েছেন প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীরা।


চুক্তিটি স্বেচ্ছামূলক হওয়ায় এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহারে সমন্বিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আহ্বান জানানো হলেও ট্রাম্প আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন।

সম্প্রতি ২০টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বৈশ্বিক সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে মানদণ্ড নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে একটি আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থা গঠনের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

তবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্প বলেছেন, এআই নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক কোনো পরিকল্পনা তৈরির প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে তাঁর প্রশাসন। তিনি একই সঙ্গে চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।


এআইয়ের দ্রুত বিকাশের পাশাপাশি সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় এআই এজেন্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এবং সাইবার হামলায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে।

ওপেনএআইও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার পর তাদের সর্বশেষ একটি এআই মডেল বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে এআই কোম্পানিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিজেরাই তদারকির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


চুক্তিকে কেউ কেউ আন্তর্জাতিক বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে দেখলেও সমালোচকেরা এর স্বেচ্ছামূলক চরিত্র এবং বিস্তারিত নির্দেশনার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ট্রাম্পের সাবেক এআইবিষয়ক উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক কোনো বাধ্যতামূলক চুক্তির সম্ভাবনার তুলনায় বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যালভিন ওয়াং গ্রেলিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অঙ্গীকারকে স্বাগত জানালেও বলেছেন, এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের তুলনায় সীমিত।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের এআই ইনস্টিটিউটের প্রধান টবি ওয়ালশও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা মূল্যায়নের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, এআই পণ্যের কারণে ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেনে দাবানলে পুড়ে ছাই কয়েক শত বাড়িঘর

যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেনে দাবানলে পুড়ে ছাই কয়েক শত বাড়িঘর