ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সামুদ্রিক জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি আরব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 7, 2026 ইং
বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের সামুদ্রিক জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি আরব ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশসহ ১৩ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার - রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি
ad728

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে গঠিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব। জোটের নেতৃত্বে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আল-শেহরি জোটভুক্ত দেশগুলোর যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারক করবেন। পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় এবং জোটের সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও থাকবে তার ওপর।

গত ৩০ জুলাই সৌদি আরবের উদ্যোগে ১৪টি দেশ এই বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেয়। জোটের সদস্য দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, কোমোরোস, জিবুতি, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। অন্য দেশগুলো প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার আগে জোটের ঘোষণাপত্র ও সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জোটটিকে একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছে। জোটের উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে একমত যেকোনো দেশ এতে যোগ দেওয়ার আবেদন করতে পারবে।

আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে জোটের সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার পাশাপাশি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা হবে।

জোট গঠনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মতো কৌশলগত সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করাও জোটটির লক্ষ্য।

ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সামুদ্রিক করিডর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন এই সামুদ্রিক জোটের উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন এই জোটের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৬টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও মহানগরে সেনাবাহিনী মোতায়েন

৬টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও মহানগরে সেনাবাহিনী মোতায়েন