আজ ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। গত কয়েক দশকে সাক্ষরতা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনও একটি বড় জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বিশেষ করে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষকে শুধু মৌলিক পড়া-লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োগিক সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এবারের প্রতিপাদ্যে সাক্ষরতাকে শুধু পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার সক্ষমতা হিসেবে না দেখে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (বিএনএফই) মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রধান অতিথি এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
এছাড়া বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।
দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও আলোচনা সভা, র্যালি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এনজিওও নিজস্ব কর্মসূচি পালন করছে।
যেভাবে শুরু আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস
নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ১৯৬৭ সালে ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
এরপর থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বজুড়ে এখনো যারা শিক্ষা ও সাক্ষরতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের অধিকার ও সংগ্রামকে সামনে আনা এবং সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও প্রথাগত সাক্ষরতার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে দক্ষতার মূলধারায় যুক্ত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ওপরই নির্ভর করছে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সাফল্য।

কালের দাবি ডেস্ক