ঢাকা | বঙ্গাব্দ

‘খুলনাবাসীর জন্য লজ্জার বিষয়’, রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি বিকৃতিতে ক্ষোভ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
‘খুলনাবাসীর জন্য লজ্জার বিষয়’, রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি বিকৃতিতে ক্ষোভ ছবির ক্যাপশন: খুলনা নগরের যশোর রোডে রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখ কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। পাশে সাঁটানো হয়েছে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্যসংবলিত পোস্টার।
ad728

খুলনা নগরের যশোর রোডে রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখ কালিতে ঢেকে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। একই সঙ্গে প্রতিকৃতির দুই পাশে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যসংবলিত পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সংস্কৃতিকর্মী ও শিক্ষাবিদেরা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে প্রতিকৃতিটি বিকৃত করার বিষয়টি। তবে কারা এ কাজ করেছে, তা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।


সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর রোডের পাশে খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্প ও সুন্দরবনের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। সেখানে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিও রয়েছে।

তবে এসব প্রতিকৃতির মধ্যে শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখ কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রতিকৃতির দুই পাশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে দুটি পোস্টার লাগানো হয়েছে। পোস্টারগুলোতে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর ‘শিবাজি উৎসব’ কবিতার উল্লেখ ও একটি ছবি রয়েছে।

পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘তিতুমীরের বাংলায় মুসলিম ও পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাঁই নাই/ ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই।’


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে এসব দেয়ালচিত্র আঁকায় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। দেয়ালচিত্রগুলোতে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি খুলনা অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।

দেয়ালচিত্রগুলো নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এগুলো নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছিল।

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এ অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে খুলনায় বেড়াতে আসা মানুষকে পরিচিত করতেই গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালগুলোতে গ্রাফিতি ও প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। তাঁর মতে, এসব দেয়ালচিত্র শিশু-কিশোরদের মুক্তচিন্তার বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাকে সংকীর্ণ মনন ও অসুস্থতার পরিচয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে আবার সুন্দর করে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি আঁকা হবে।


ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। ফেসবুকে ওমর ফারুক নামের একজন লিখেছেন, ‘স্বাধীন দেশে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ জেসমিন আক্তার নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘কালি লেপন করে যারা, তারা রবীন্দ্রনাথ কী, তা জানে না।’

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, কারা এ কাজ করেছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, যারা এ কাজ করেছে, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাদের জানাশোনা সীমিত অথবা ভুল। রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির কথা চিন্তা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের আদি নিবাস খুলনায় এবং তাঁর শ্বশুরবাড়িও এ জেলায়। তাই খুলনায় তাঁর প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়াকে খুলনাবাসীর জন্য লজ্জার বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়