ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে বড় সিদ্ধান্ত এসেছে। ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষ প্রমাণিত হয়েছে বলে দ্য অ্যাথলেটিক ও বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র দ্য অ্যাথলেটিককে জানিয়েছে, মামলার শুনানির জন্য গঠিত স্বাধীন কমিশন একটি অভিযোগ ছাড়া বাকি সব অভিযোগেই ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তবে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই সূত্রগুলো নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
দোষী সাব্যস্ত হলেও ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও সিটির রয়েছে।
ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ১১৫টি অভিযোগ আনে প্রিমিয়ার লিগ। অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই ২০০৯–১০ থেকে ২০১৭–১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়ের আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অভিযোগের মধ্যে ছিল আয় ও স্পনসরশিপের বিষয়ে সঠিক আর্থিক তথ্য না দেওয়া, কোচ ও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকসংক্রান্ত তথ্য, উয়েফার আর্থিক নিয়ম এবং প্রিমিয়ার লিগের প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস (পিএসআর) না মানা। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও ছিল ক্লাবটির বিরুদ্ধে।
আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার লিগের স্বাধীন কমিশন জরিমানা, পয়েন্ট কাটা কিংবা অন্যান্য ক্রীড়া-সংক্রান্ত শাস্তি দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এভারটন ও নটিংহাম ফরেস্টের ক্ষেত্রে পয়েন্ট কাটা হয়েছিল।
তবে ওই ঘটনাগুলোর ভিত্তিতে ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা ও ধরন আলাদা এবং শাস্তির বিষয়টি স্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এখন তাই ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কী শাস্তি দেওয়া হয় এবং ক্লাবটি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে কি না, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কালের দাবি ডেস্ক