ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে যন্তর মন্তর এলাকায় কোনো জমায়েত হতে দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভের চেষ্টা করায় অন্তত তিন হাজার মানুষকে আটক করার তথ্য নিশ্চিত করেছে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতারা। তবে সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১০ অক্টোবর দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা যায়। শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পথে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। মান্ডি হাউস সার্কেল, বারাখাম্বা রোড ও কনট প্লেসের আশপাশে ব্যারিকেড বসানো হয়। যন্তর মন্তরের কাছাকাছি এলাকায় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যান, জলকামান, প্রিজন ভ্যান এবং বাস মোতায়েন ছিল।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকার কথা জানিয়ে পুলিশ সব ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কেউ প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে এলেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া বা আটক করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনে একই এলাকায় দুই পক্ষের স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের আচরণে পার্থক্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
যন্তর মন্তরের আশপাশে নিরাপত্তা ও চলাচলে কড়াকড়ির পাশাপাশি ওই এলাকার পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কথাও জানিয়েছেন বিবিসির সংবাদদাতা। এতে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে এবং অন্য এলাকার সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমস্যা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগও ছিল। একজন আইনজীবী বিবিসিকে জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে তিনি দাবি করছেন। কীভাবে আবার তালিকায় নাম তোলা যাবে, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা এক বৃদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, সরকার ও প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। অন্য এক তরুণের প্রশ্ন, একটি প্রাণবন্ত শহরকে একদিন স্তব্ধ রাখা গেলেও তরুণদের কণ্ঠ কত দিন এভাবে দমিয়ে রাখা যাবে?
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও পরিচিত ব্যক্তিকেও আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কয়েকজন বিরোধী ও ছাত্রনেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের আটকের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দিল্লির কেন্দ্রস্থল কনট প্লেসে স্বাভাবিক জনসমাগম ছিল না। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ও সেখানে অবস্থান নেওয়া ঠেকাতে পুলিশি তৎপরতার কারণে এলাকার রেস্তোরাঁ ও পানশালাও বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড, তল্লাশি ও আটকের ঘটনায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভকারীদের আটকের সংখ্যা নিয়ে বিবিসি বাংলা ও পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাই চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করতে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিক্ষোভের দিন দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং জমায়েত ঠেকাতে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ছিল।
সৌজন্যে: বিবিসি বাংলা

কালের দাবি ডেস্ক