ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের ভোটে কারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, সমীকরণে আরব দলগুলো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
ইসরায়েলের ভোটে কারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, সমীকরণে আরব দলগুলো ছবির ক্যাপশন: ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।
ad728

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ তাদের বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস সংশোধন করে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৯টি। আরব দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন।

এই হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য কোনো পক্ষেরই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত নয়। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলের পাশাপাশি ছোট দলগুলোর অবস্থান ও সম্ভাব্য জোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৯ সালের পর দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোট দিতে যান। বিশেষ করে আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের অনেকে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোটকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্য নিয়ে ভোট দিয়েছেন।

বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসে ইহুদি-ইসরায়েলি ভোটারদের সমর্থন দুই প্রধান শিবিরের মধ্যে প্রায় সমানভাবে বিভক্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষের সরকার গঠন কঠিন হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা এড়াতে ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে। তবে এ ধরনের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে।

জেরুজালেমে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তাঁর লিকুদ পার্টি নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে এবং ডানপন্থী জোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, লিকুদ পার্টিই সবচেয়ে বড় দল। আমাদের সঙ্গে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে না। দ্বিতীয় যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো ডানপন্থী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। আর এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিরঙ্কুশ।’

নেতানিয়াহু একটি ‘জাতীয় ডানপন্থী সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধী বলে তিনি যেসব আরব নেতৃত্বাধীন দলের কথা উল্লেখ করেন, তাদের ওপর নির্ভর না করার পক্ষেও মত দেন।

এ ছাড়া ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নেতানিয়াহু বলেন, বিরোধী দলগুলোর ভালো ফলের পূর্বাভাস প্রচার করে তাঁর সমর্থকদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে বুথফেরত জরিপে প্রকাশিত আসনসংখ্যার পূর্বাভাস নেতানিয়াহুর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবিকে নিশ্চিত করে না। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকার গঠনের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে না।

ইসরায়েলের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবিরের দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগে আইজেনকোটের সম্মতি পাওয়া সহজ হবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সমর্থকদের বড় একটি অংশ নেতানিয়াহুর বিরোধী। আইজেনকোটও আগেই বলেছেন, যাঁকে তিনি ইসরায়েলের নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্য মনে করেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেবেন না।

ঐক্য সরকার গঠিত হলে তার নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটিও বড় প্রশ্ন। নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়তে আগ্রহী হবেন কি না, আর আইজেনকোটের শিবির কী শর্তে সমঝোতায় যাবে—এসব বিষয় এখনো অনিশ্চিত।

নির্বাচনের পর ভোট গণনা শুরু হয়েছে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষ হলে ‘ডাবল এনভেলপ’ নামে পরিচিত বিশেষ খামে থাকা ভোট গণনা করা হবে। এসব ভোটের মধ্যে সেনাসদস্য, কূটনীতিক, চিকিৎসক ও নার্সদের মতো দায়িত্ব পালনের কারণে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারা ব্যক্তিদের ভোট রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের খামে থাকা ভোটের সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ। সাধারণত এসব ভোট নির্বাচনের সামগ্রিক ফলে বড় পরিবর্তন আনে না। তবে বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাসে আসনসংখ্যার হিসাব পরিবর্তিত হওয়ায় চূড়ান্ত ফলের দিকে নজর রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি থাকলেও কোনো জোট এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের কোনো দলকে নিজেদের পক্ষে আনা কিংবা আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার মতো বিকল্প বিবেচনায় নিতে হতে পারে।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরই ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের সম্ভাব্য পথ এবং জোটের সমীকরণ আরও পরিষ্কার হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রাণহানি বাড়ছেই, আশ্রয়শিবিরে এখনও ২০

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রাণহানি বাড়ছেই, আশ্রয়শিবিরে এখনও ২০