‘উপকূল রক্ষা না করলে বাংলাদেশকে বাঁচানো যাবে না’: সাইফুল হক
উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করা ছাড়া বাংলাদেশকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শুধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; উপকূলীয় মানুষের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও মতামতকে জাতীয় নীতি নির্ধারণে গুরুত্ব দিতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) আয়োজিত ‘কোস্টাল ক্লাইমেট ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
উপকূল রক্ষায় সংসদীয় ককাস ও গণশুনানির প্রস্তাব
উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট মোকাবিলায় জাতীয় সংসদে উপকূলীয় এলাকার সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বিশেষ পার্লামেন্টারি ককাস গঠনের প্রস্তাব দেন সাইফুল হক। তার মতে, উপকূলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংসদে নিয়মিত আলোচনা এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় বড় কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া জরুরি। এ জন্য প্রকল্প অনুমোদনের আগে পাবলিক হিয়ারিং বা গণশুনানির ব্যবস্থা করতে হবে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে অনেক সময় তা তাদের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।
দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা মোকাবিলা এবং নারী ও শিশুদের জীবনমান সুরক্ষায় মিঠা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচিতে উপকূল এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান সাইফুল হক।
জলবায়ু অর্থায়ন ও রাজনৈতিক উদাসীনতা
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের অর্থ পেতে নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক। তার মতে, উন্নত দেশগুলোর পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের দায়ের বড় অংশ বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের প্রান্তিক ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে।
তিনি বলেন, দেশের উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, নিরাপদ পানি, পরিবেশ ও বসতভিটা রক্ষার প্রশ্নটি জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সংলাপে যারা উপস্থিত ছিলেন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আব্দুল লতিফ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।
আলোচনায় অংশ নেন চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, সিপিআরডির নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা, কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওরের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত, সিডিপির চেয়ারম্যান মিহির বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিজম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন।
ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি আমিনুর রসুল বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

কালের দাবি ডেস্ক