ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 5, 2026 ইং
শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
ad728


শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষ যাতে শিক্ষকতাকে কর্মজীবনের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও বাড়ে।

শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আদর্শ রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন, সে ধরনের পরিকল্পনা সরকার বাস্তবায়ন করছে।

আধুনিক ও ব্যবহারিক শিক্ষায় গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের বিকল্প নেই। এ কারণে ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তনের পাশাপাশি সিলেবাস আধুনিকায়ন জরুরি।

বাস্তবতার নিরিখে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাবে।

শুধু মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলো জাগিয়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করা গেলে তারা নিজেরাই শেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

আনন্দময় শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এবার প্রথমবারের মতো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন একটি বই দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি

প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে না দেখে শিক্ষকের সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষক ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

শিক্ষকদের নতুন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে আরও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে না। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে কেউ ঝরে পড়লেও যেন বেকার না থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার সুযোগের পার্থক্য কমিয়ে দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের মূল ভিত্তি হচ্ছে সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার।

শিক্ষকের বেতন-অবসরভাতা নিয়ে নির্দেশনা

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকতা পেশাকে আরও সম্মানজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য সরকার কাজ করছে।

শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পেতে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য অফিসে ঘুরতে হবে না। যথানিয়মে যথাসময়ে তার প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য চলতি বছর থেকে নীতিমালার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষক কর্মরত থাকুন কিংবা অবসর জীবনে—তার মহান পেশার কারণেই আমৃত্যু তিনি রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষকরাই জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মৌসুম শুরু নভেম্বরে, প্রস্তুত ইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মৌসুম শুরু নভেম্বরে, প্রস্তুত ইসি