জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকবর খান। তিনি অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া, পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও।
এক বিবৃতিতে আকবর খান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপে যখন শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
আকবর খান আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পুরো দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে জ্বালানি খাতে অপচয়, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব খরচ ও কর পরিশোধের পরও বিপিসি প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। গত ১১ বছরে সংস্থাটির মোট মুনাফা প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আকবর খানের দাবি, ওই সময়ে বিপিসি সরকারি কোষাগারে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি জমা দিয়েছে। ফলে লাভে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপের যুক্তি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো কতটা যৌক্তিক, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে সরকারি সেবা খাতে ভর্তুকি কমানোর নামে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।
বিবৃতিতে আকবর খান অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে সরকার আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দেশি-বিদেশি পুঁজির স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার পুরো দায় জনগণের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে জ্বালানি খাতে অপচয়, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কালের দাবি ডেস্ক