ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার কেইনের হাতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 27, 2026 ইং
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার কেইনের হাতে ছবির ক্যাপশন: ব্যালন ডি’অর জয়ের পর ট্রফি হাতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
ad728

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। তাঁর এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলার ব্যালন ডি’অর জিতলেন।

সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩৩ বছর বয়সী কেইনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো। ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ প্রতিবছর এই পুরস্কার দিয়ে থাকে।

ইংল্যান্ডের সর্বশেষ ফুটবলার হিসেবে ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন মাইকেল ওয়েন। এবার কেইনের হাত ধরে আবারও এই সম্মান পেলেন ইংলিশ ফুটবলাররা।


ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে কেইন হলেন ইংল্যান্ডের পঞ্চম বিজয়ী। এর আগে ১৯৫৬ সালে পুরস্কারটির প্রথম আসরে জিতেছিলেন স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। পরে ১৯৬৬ সালে স্যার ববি চার্লটন এবং ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান এই স্বীকৃতি পান। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো কেইনের নাম।

ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার পেলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তবে তাঁর সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। টটেনহামে দীর্ঘ সময় কাটিয়েও বড় কোনো দলীয় শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। ব্যক্তিগতভাবে নিয়মিত গোল করলেও কাঙ্ক্ষিত ট্রফি অধরাই ছিল।

সেই অপেক্ষা থেকেই ২০২৩ সালে টটেনহাম ছেড়ে জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন কেইন। তবে তাঁর যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমে বুন্দেসলিগার শিরোপা জিততে পারেনি বাভারিয়ান ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত ২০২৪-২৫ মৌসুমে বুন্দেসলিগা জিতে শিরোপার খরা কাটান কেইন। পরবর্তী সময়ে আরও বড় অর্জন যুক্ত হয় তাঁর ক্যারিয়ারে।


ব্যালন ডি’অর জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন কেইন। কঠিন সময়েও পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, ‘নীরবে কঠোর পরিশ্রম করো, সাফল্যকেই তোমার হয়ে কথা বলতে দাও।’

পুরস্কার জয়ের পর ডিএজেডএন টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও নিজের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরেন ইংল্যান্ডের এই তারকা। তাঁর ভাষ্য, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তখন অনেকেই তাঁকে ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে দেখেননি। এমনকি এত দূর পৌঁছাতে পারবেন, তা নিজেও সব সময় ভাবেননি বলে জানান তিনি।

কেইন বলেন, ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাঁকে। অনেক সময় লড়াইটা ছিল নিজের মনের সঙ্গে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং দৃঢ় সংকল্প ধরে রাখাই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত রেখেছে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও নিজেকে আরও উন্নত করার তাগিদ জুগিয়েছে।


২০২৬ সালের নারী ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। অনুষ্ঠানে তাঁর নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন ২০০১ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েন।

বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডার এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালেও নারী ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো পুরস্কারটি জিতে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করলেন তিনি।

পুরস্কার ঘোষণার পর অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই এবারের ব্যালন ডি’অর জয় ফুটবলবিশ্বের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেইনের এই জয় তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত স্বীকৃতির অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। আর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে সেই যাত্রার মূল শিক্ষা—ধৈর্য, পরিশ্রম ও নিজের ওপর বিশ্বাস।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে কী কারণে সাহায্য? ব্যাখ্যা চিনের

তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে কী কারণে সাহায্য? ব্যাখ্যা চিনের