ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল আল-সাইয়েদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত আবদুল আল-সাইয়েদ ছবির ক্যাপশন: মার্কিন সিনেট নির্বাচনে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয়ী আবদুল আল–সাইয়েদ।
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটির সিনেটের ২৩৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত আল-সাইয়েদ। এর আগে তিনি চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করেছেন। তাঁর এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। এসব ইস্যুতে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেও মতপার্থক্য দেখা যায়।


আবদুল আল-সাইয়েদের জন্ম মিশিগানের রচেস্টার হিলসে। তাঁর মা-বাবা মিসরীয় অভিবাসী। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে পেশাগত জীবন গড়ে তোলেন তিনি।

২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন আল-সাইয়েদ। এরপর রোডস স্কলার হিসেবে ২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি নেন। ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

রোডস স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচি।

২০১৫ সালে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন আল-সাইয়েদ। শহরটির আর্থিক সংকটের পর জনস্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনের উদ্যোগ তদারকি করা ছিল তাঁর দায়িত্বের অংশ। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনে প্রার্থী হন আল-সাইয়েদ। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবিক ও প্রবীণ সেবাবিষয়ক বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডেট্রয়েট শহর এই কাউন্টির অন্তর্ভুক্ত।


২০২৬ সালে আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হন আল-সাইয়েদ। গত আগস্টে মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান প্রগতিশীল ধারার কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং মিশিগানের প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য রাশিদা তালিব।

আল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল সবার জন্য মেডিকেয়ার কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো, আবাসন ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে ধনী দাতাদের প্রভাব হ্রাস এবং শ্রমজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি।

তবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তিও প্রকাশ পায়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।

প্রাথমিক নির্বাচনে আল-সাইয়েদের কাছে হেরে যাওয়া হেইলি স্টিভেন্স মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই দিন আগে তাঁর বিরোধিতা করেন। আল-সাইয়েদের নির্বাচনী বক্তব্য ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেন। এতে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত আল-সাইয়েদের জয় ঠেকানো যায়নি।


পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পান আল-সাইয়েদ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই অবস্থান নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত হয়।

প্রচারের সময় তাঁর মুসলিম পরিচয়ও আলোচনায় আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান দলের কয়েকজন নেতা তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন।

এর জবাবে আল-সাইয়েদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতেই প্রেসিডেন্ট তাঁর নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করছেন।


আল-সাইয়েদের নির্বাচনকে সিনেটের ইতিহাসে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর আগে মুসলিম মার্কিন নাগরিকেরা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

২০০৬ সালে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালে রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমর প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
হাসিনার বক্তব্যে ভারতের কোনো সমর্থন নেই: রণধীর জয়সওয়াল

হাসিনার বক্তব্যে ভারতের কোনো সমর্থন নেই: রণধীর জয়সওয়াল