ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক ডিভাইসে ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 7, 2026 ইং
ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক ডিভাইসে ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ ছবির ক্যাপশন: ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ad728

রয়টার্স :

ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা তাদের মুঠোফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বা মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি নিষ্ক্রিয় করেছে। বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহ করা লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের শনাক্ত করা হচ্ছে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে এসেছে।

মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের লেখা একটি চিঠিতে বিষয়টি উঠে এসেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা তাদের ব্যবহৃত ডিভাইসে বিজ্ঞাপনভিত্তিক শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করেছে।

রয়টার্সকে কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, তাঁদের বিভিন্ন ধরনের মুঠোফোন ও কম্পিউটারে থাকা অ্যাড ট্র্যাকার নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

অ্যাড ট্র্যাকার এমন একটি প্রযুক্তি, যা কোনো ডিভাইস ব্যবহারকারীর অবস্থান, ব্রাউজিং তথ্য, অ্যাপ ব্যবহারের ধরন ও অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। সাধারণত এসব তথ্য ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। তবে একই ধরনের তথ্য সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতেও ব্যবহৃত হতে পারে।

মার্কিন বিমানবাহিনী সিনেটর ওয়াইডেনকে জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে তারা তাদের কম্পিউটার ও মুঠোফোনে থাকা অ্যাড ট্র্যাকার নিষ্ক্রিয় করেছে। মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডও জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের উইন্ডোজচালিত ডিভাইসগুলোয় থাকা এ ধরনের শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাদের মুঠোফোনে অ্যাড ট্র্যাকার নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উইন্ডোজ কম্পিউটারগুলোয় বিজ্ঞাপন আইডি ২০২১ সালের আগেই বন্ধ করা হয়েছিল। আর অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের মুঠোফোনে অন্তত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

ওরেগনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন ওয়াইডেন কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।

মুঠোফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিজ্ঞাপনশিল্পের মাধ্যমে সংগ্রহ এবং পরে ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ডেটা ব্রোকার হলো এমন প্রতিষ্ঠান, যারা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন করে পরে তা বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে।

বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সামরিক সদস্যদের ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্য বড় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে কোনো সেনা সদস্যের অবস্থান শনাক্ত করা গেলে তাঁকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানো সম্ভব।

ওয়াইডেন ও নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান গত শুক্রবার পেন্টাগনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সামরিক বাহিনী ও তাদের সদস্যদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কেনাবেচার ঝুঁকি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন তাঁরা।

ওয়াইডেন বলেন, সামরিক বাহিনী যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো যে এই হুমকি মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর হয়নি, তা এখন স্পষ্ট।

হ্যারিগানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের এমন তথ্য কিনে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়, যার মাধ্যমে তারা মার্কিন সেনাদের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে।

এ বিষয়ে মার্কিন বিমানবাহিনী ও স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড নতুন করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। নৌবাহিনীর কাছেও মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পেন্টাগন জানিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের চিঠির জবাব সরাসরি তাঁদের কাছেই দেওয়া হবে।

তবে শুধু অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ করলেই সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্তের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হচ্ছে না বলে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ডিক্রিপ্টঅ্যাডসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক এডওয়ার্ডস বলেন, সামরিক ডিভাইসে মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি নিষ্ক্রিয় করা অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ডিভাইসের কারিগরি তথ্যের সঙ্গে নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য লোকেশন তথ্য মিলিয়ে আরও জটিল উপায়ে ব্যবহারকারীর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। গত জুলাইয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে তাঁদের ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। ইন্টারনেটে সেনাদের পোস্ট করা ভিডিও ব্যবহার করে ইরান ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এ উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন নেতৃত্ব আশা করেছিল, ইরানের ওপর বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে পারে।

তবে ছয় মাস পরও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে নতুন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
যে হোস্টেলে থাকতেন জুবাইদা, সেখানেই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আবে

যে হোস্টেলে থাকতেন জুবাইদা, সেখানেই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আবে