ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দুই রিট খারিজ, গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা পাবে সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 10, 2026 ইং
দুই রিট খারিজ, গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা পাবে সরকার ছবির ক্যাপশন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির মামলায় বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফাইল ছবি
ad728


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আয়করের বিষয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর ফলে এনবিআরের দাবি অনুযায়ী গ্রামীণ কল্যাণকে সরকারের রাজস্ব বাবদ প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ জানিয়েছেন, রায়ের পর ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে ৩০ দিন সময় দিয়ে ডিমান্ড নোটিশ জারি করা হবে।

অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর তারা আপিল করবেন।


পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭—এই পাঁচ করবর্ষের আয়কর নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে অর্থ দাবি করে এনবিআর।

কর কমিশনারের সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট এসব রিটের ওপর রুল জারি করেন।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়।


হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করে।

আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বিষয়টি নিষ্পত্তি করে গ্রামীণ কল্যাণের রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন।

এরপর মামলাটি আবার হাইকোর্টে শুনানির জন্য আসে।


পুনঃশুনানির পর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিট খারিজ করে রায় দেন।

তবে ২৯ আগস্ট একই বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করে নেন।

রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে বলা হয়, ওই দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক এর আগে এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ফলে তার ওই মামলায় রায় দেওয়ার বিষয়টি ত্রুটিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।


প্রধান বিচারপতি পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান।

এই বেঞ্চে মামলার ওপর নতুন করে শুনানি হয়। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক দুটি রিটের রুল খারিজ করে দেওয়া হলো।

ফলে এনবিআরের দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।


রায়ের পর গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর রায়ের বিস্তারিত বিষয় জানা যাবে। এরপর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করা হবে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের রায় পাওয়ার পর কর বিভাগ নিয়ম অনুযায়ী ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে এবং গ্রামীণ কল্যাণকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং একসময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদে সরকার-বিরোধী দলের তুমুল বাদানুবাদ, উদ্বিগ্ন স্পিকার

সংসদে সরকার-বিরোধী দলের তুমুল বাদানুবাদ, উদ্বিগ্ন স্পিকার