ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইরানে যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, সময়সূচি নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 8, 2026 ইং
ইরানে যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, সময়সূচি নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প ছবির ক্যাপশন: ইরানে সম্ভাব্য নতুন মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ad728

ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে এখনো হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালাতে পারে। এমনকি ইসরায়েলি নির্বাচনের প্রায় এক সপ্তাহ আগেও অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও পড়তে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের সামনে সামরিক বিকল্প তৈরি করে উপস্থাপন করা। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে এবং তিনি যেকোনো সময় সেগুলোর কোনোটি বেছে নিতে পারেন।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাতেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি রয়েছে।

এর আগে ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের কয়েক ঘণ্টার বৈঠক হয়। সেখানে যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে বলে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কয়েক সপ্তাহ বিরতির পর অল্প সময়ের মধ্যে এটি তাঁদের দ্বিতীয় ফোনালাপ। ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করার পর ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে এতে অংশ নিতে পারে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ ও চাপ বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে ইরান আগে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইসরায়েলও পাল্টা হামলার মুখে পড়তে পারে। ইরান প্রতিশোধ হিসেবে দেশটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। এতে ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে হামলার সময় বা আদৌ সামরিক অভিযান হবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনা, সামরিক প্রস্তুতি এবং আসন্ন নির্বাচন—তিনটি বিষয়ই এখন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কালের দাবি ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার